নাটোর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এমপি কুদ্দুসের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ নানা অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টারঃ

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা কমিটিকে বাইপাস করে নতুনভাবে মনগড়া ছায়া কমিটি গঠন ও নবনির্বাচিত জেলা কমিটিতে যোগ্য নেতাদের বাদ দিয়ে জেলা কমিটি গঠন করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. আব্দুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে এমপি কুদ্দুস ক্রমাগতভাবে সংগঠনের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকান্ড করে দলের ত্যাগি নেতাদের বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছেন।
শুক্রবার (২৪ জুন) বেলা সাড়ে ১১ টায় চাঁচকৈড় বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগারে উপজেলা আওয়ামীলীগ কর্তৃক আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওই অভিযোগ করা হয়। লিখিত অভিযোগ পাঠ করেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট মো. আনিসুর রহমান। এসময় জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি সরকার এমদাদুল হক মোহাম্মাদ আলী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক গুরুদাসপুর পৌর মেয়র মো. শাহনেওয়াজ আলী, জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক তথ্য ও গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক গুরুদাসপুর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম ও সাধারন সম্পাদক মো. আনিসুর রহমান সহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগে আরো বলা হয়, ২০০৩ ও ২০১৪ সালে সরাসরি কাউন্সিলরের মাধ্যমে ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল হলেও জেলা কমিটির সভাপতি এমপি কুদ্দুস পরবর্তিতে ইচ্ছে করেই গুরুদাসপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটি গঠন করেননি। এছাড়া গত ২০ ফেব্রæয়ারী জেলা আওয়ামীলীগের কাউন্সিলে এমপি কুদ্দুস সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক পদে মো. শরিফুল ইসলাম রমজান মনোনিত হলেও এখন পর্যন্ত জেলার পুর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন না করে গঠনতন্ত্র পরিপন্থীভাবে ২০১৪ সালের কমিটির মাধ্যমে উপজেলা কাউন্সিল করার চেষ্টা করছেন। শুধু তাই নয় এমপি কুদ্দুস বিগত উপজেলা ও পৌর নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনিত প্রার্থী ও নৌকার বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিয়ে বিতর্কিত হয়েছেন। সর্বশেষ ১৯ জুন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সম্পাদক উপজেলা আওয়ামীলীগকে পত্র দিয়ে জানায়, উপজেলায় দুইটি কমিটি থাকায় ২২ জুন উপজেলা আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভায় ওই দুই কমিটির সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে- যা দলীয় গঠনতন্ত্র বিরোধী।
উপজেলা কমিটির দাবি ২০২০ সালের নির্বাচিত ৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার কমিটি ও কাউন্সিলরদের নিয়ে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নিয়মানুযায়ী ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল করা হোক।
এমপি কুদ্দুসকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে মেয়র শাহনেওয়াজ আলী বলেন, আমার বক্তব্য এডিট করে ভুল ব্যখ্যা দেওয়া হয়েছে। বরং ২০১৪ ও ২০১৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চাওয়ায় এমপি কুদ্দুস আমাকে দুইবার হত্যার চেষ্টা করেছেন।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দস এমপি বলেন, তিনি আরও বলেন আমরা হত্যার রাজনীতি করিনা। দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামালকে তারা মানেন না। আমি ও শরীফুল ইসলাম রমজান দেশনেত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছি। তাই আমার ও রমজানের বিরুদ্ধে কথা বলা মানে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কথা বলা। আমরা যা কিছু করার আইনিভাবেই করব।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.