লাশ দেখে তিন বছরের মেয়েটি বলে উঠল ‘বাবা, বাবা’

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার খন্দকিয়া গ্রামে জানাজা হয়

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তিরা হলেন কোচিং সেন্টারের চার শিক্ষক জিয়াউল হক (২২), মোস্তফা মাসুদ রাকিব (১৯), রিদুয়ান চৌধুরী (২২) ও ওয়াহিদুল আলম (২৩); শিক্ষার্থী সামিরুল ইসলাম হাসান, মোসাহাব আহমেদ (১৬), ইকবাল হোসেন, শান্ত শীল ও সাজ্জাদ হোসেন, মো. আসিফ (১৮) এবং মাইক্রোবাসের চালক গোলাম মোস্তফা (২৬)। গতকাল রাত সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রাম রেলওয়ের জিআরপি থানা থেকে নিহত ব্যক্তিদের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।দুর্ঘটনায় নিহত হন কোচিং সেন্টারের শিক্ষক জিয়াউল হক (২২)। তাঁর লাশ জানাজার জন্য খাটে তোলার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর মা শাহনাজ আক্তার। কাঁদেন বাবা আবদুল হামিদ ও বোন শারমিন আক্তার। তাঁরা কিছুতেই লাশ নিতে দেবেন না। পরে স্বজনেরা বুঝিয়ে তাঁদের শান্ত করেন।সকাল ১০টায় বাড়ির পাশে স্থানীয় ছমদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা হয় জিয়াউলের। একই জানাজায় মাইক্রোবাসের চালক গোলাম মোস্তফাসহ মোট পাঁচজনের জানাজা হয়। পরে তাঁদের স্থানীয় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় খন্দকিয়া কেএস নজু মিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী মোসহাব আহমেদের জানাজা হয়।জানাজায় মানুষের ঢল নামে। সকাল আটটা থেকে জানাজায় অংশ নিতে লোকজন আসতে শুরু করে। ছমদিয়া স্কুলের মাঠ মানুষে ভর্তি হয়ে যাওয়ায় পাশের সড়কে দাঁড়িয়ে লোকজন জানাজায় অংশ নেন। এর আগের দিন রাতে দুর্ঘটনায় নিহত দুজনের জানাজা হয়। আরও দুজনকে তাঁদের গ্রামের বাড়িতে মাদ্রাসায় জানাজা শেষে দাফন করা হয়। তাঁরা খন্দকিয়ায় নানা বাড়িতে থাকতেন।জানাজায় স্থানীয় সংসদ সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ সালাম, হাটহাজারী উপজেলা চেয়ারম্যান রাশেদুল আলম, হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীদুল আলমসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ অংশ নেন।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.