চোখে না দেখা এক ধারাভাষ্যকারের গল্প

ক্রিকেটের ইতিহাসই ভালোই জানেন ডু প্লেসি

ক্রিকেটের ইতিহাসই ভালোই জানেন ডু প্লেসি
ছবি: টুইটার

নিজের ধারাভাষ্যের কৌশল বোঝাতে কিছু উদাহরণ দিলেন তিনি, ‘ব্যাটিংয়ের সময় একেকজন ব্যাটসম্যান একেক রকম শব্দ করে। “ইয়েস”, “নো” একেকজন একেকভাবে বলে থাকে। যেমন মার্কাস ট্রেসকথিক কখনো “ইয়েস”, “নো” বলতেন না। তিনি বলতেন, “রান”। সেটা শুনেই বলে দেওয়া যায় যে কে খেলছেন। কেভিন পিটারসেন যখন লেগ সাইডে খেলতেন…পুল, হুক কিংবা সুইপ খেললে তিনি অন্য রকম শব্দ করতেন। যেটা কাভার ড্রাইভ করলে শোনা যেত না। বিষয়টা এমন, একজনকে দেখার পর আমরা জানি যে লোকটা দেখতে কেমন। তেমনি আমি একজনকে শোনার পর বুঝে নিই, তিনি শুনতে কেমন।’বাংলাদেশের পেসার শাহাদাত হোসেনের কথাটা সে কারণেই এখনো মনে পড়ে ডু প্লেসির। বল ছাড়ার আগে শাহাদাতের বিকট শব্দ ডু প্লেসি এখনো ভোলেননি, ‘বাংলাদেশের পেসার শাহাদাতের কথা মনে আছে। সে বোলিংয়ের সময় অনেক শব্দ করত। শুনতে অনেকটা টেনিস প্লেয়ার মনিকা সেলেসের মতো মনে হতো।’এ তো গেল ডু প্লেসির শ্রবণশক্তির কথা। তাঁর আরেক বড় শক্তি অভিজ্ঞতা, ‘আমি খেলাটার সঙ্গে জড়িয়ে সেই ১৯৯১ সাল থেকে, মিডিয়ায় কাজ করছি ২০০১ সাল থেকে। খেলাটা আমি ৩১ বছর ধরে শুনছি। অভিজ্ঞতার কারণেই আমি কাজটা করতে পারছি।’

ডু প্লেসির ধারাভাষ্য দেওয়ার একটি মুহূর্ত

ডু প্লেসির ধারাভাষ্য দেওয়ার একটি মুহূর্ত
ছবি: সংগৃহীত

নতুন ক্রিকেটারদের চেনার ক্ষেত্রে ডু প্লেসিকে সাহায্য করেন তাঁর আশপাশে থাকা সাংবাদিক, ধারাভাষ্যকারেরা। কখন কত রান দরকার, কোন ব্যাটসম্যান কত রানে খেলছেন—সবার প্রিয় ‘ডিন’কে এসব তথ্য দেওয়ার লোকের অভাব নেই।
আসলে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটেরই একটি বিশাল অংশজুড়ে আছেন ডু প্লেসি। তাঁকে ছাড়া হারারে স্পোর্টস ক্লাবের মিডিয়া সেন্টার নাকি খাঁ খাঁ করে।বাংলাদেশের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুটিতে তিনি ছিলেন না। তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ডু প্লেসি মাঠে আসতেই তাঁকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন সবাই। চোখে না দেখতে পেলেও কান খাড়া করে তিনি সেটি উপভোগ করছিলেন। আর মুখে ঝোলানো একচিলতে হাসি যেন বলে দিচ্ছিল, চোখে না দেখলে কী হয়েছে, মাঠের আবহ উপভোগ করতে তাঁর শ্রবণেন্দ্রিয় যথেষ্ট।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.