ঈদযাত্রার ১৫ দিনে সড়কে প্রাণ গেছে ৪১৬ জনের

এবা‌রের ঈদযাত্রায় ৩৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪১৬ জন নিহত ও ৮৪৪ জন আহত হ‌য়ে‌ছেন। ১৬৪ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৪৫ জন নিহত ও ১১০ জন আহত হয়েছেন। ঈদযাত্রার দুর্ঘটনার ৪৪ দশ‌মিক ৮ শতাংশ এবং নিহতের ঘটনার ৩৪ দশ‌মিক ৮৫ শতাংশে মোটরসাই‌কে‌লের সস্পৃক্ততা র‌য়ে‌ছে।

বৃহস্প‌তিবার (১২ মে) সেগুনবা‌গিচার ঢাকা রি‌পোর্টার্স ইউ‌নি‌টি‌তে সংবাদ স‌ম্মেল‌নে এ তথ্য প্রকাশ ক‌রে‌ছে যাত্রীকল্যাণ স‌মি‌তি। সংগঠন‌টির প্রতি‌বেদন অনুযায়ী, আ‌গের বছ‌রের তুলনায় এবা‌রের ঈদযাত্রায় সড়‌কে দুর্ঘটনা ১৪ দশ‌মিক ৫১ শতাংশ বে‌ড়ে‌ছে। নিহতের সংখ্যা বে‌ড়ে‌ছে ২২ দশ‌মিক ৩৫ শতাংশ।

স‌মি‌তির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী ঈদযাত্রায় ‘সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন-২০২২’ তুলে ধরেন। এতে বলা হয় ক‌রোনার বি‌ধি‌নি‌ষেধ না থাকায় এবারের ঈদে বেশি সংখ্যক যাত্রী যাতায়াত ক‌রেন। গণপরিবহন বন্ধ-চালুর ফাঁকে প্রায় ১০ লাখ মোটরসাইকেল ও ২০ লাখ ইজিবাইক রাস্তায় নামে।

ফলে এবারের ঈদযাত্রায় ২৫ লাখ মোটরসাইকেল, ৪০ লাখ ইজিবাইক বহরে থাকার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারের বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার উল্লেখযোগ্য তৎপরতার কারণে ঈদ যাত্রা খানিকটা স্বস্তিদায়ক হলেও সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে।

ঈদযাত্রা শুরুর দিন ২৬ এপ্রিল থেকে ঈদ শেষে কমস্থলে ফেরা ১০ মে পর্যন্ত ১৫ দিনে ৩৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪১৬ জন নিহত এবং  ৮৪৪ জন আহত হয়েছেন। রেলপথে ২৭টি ঘটনায় ২৫ জন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। নৌপথে তিনটি দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ২০৯ জন চালক, ২৪ জন পরিবহনশ্রমিক, ৮৮ জন পথচারী, ৬২ জন নারী, ৩৫ জন শিশু, ৩৩ জন শিক্ষার্থী, ২ জন সাংবাদিক, ৮ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ২ জন শিক্ষক, ৬ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ১ জন চিকিৎসকের পরিচয় মিলেছে।

বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের সদস্যরা বহুল প্রচারিত ও বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় দৈনিক, আঞ্চলিক দৈনিক ও অনলাইন দৈনিক এ প্রকাশিত সংবাদ মনিটরিং করে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছেন।

সংগঠিত দুর্ঘটনা বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট যানবাহনের ৩৮ দশ‌মিক ৭৫ শতাংশ মোটরসাইকেল, ১৫ দশ‌মিক ৪৯ শতাংশ ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান-লরি, ৮ দশ‌মিক ৪৫ শতাংশ কার-মাইক্রো-জিপের সং‌শ্লিষ্টতা র‌য়ে‌ছে।

২০ দশ‌মিক ৯৬ শতাংশ দুর্ঘটনা মুখোমুখি সংঘর্ষে, ৪২ দশ‌মিক ৪৭ শতাংশ পথচারীকে গাড়িচাপা দেওয়ায়, ১৫ দশ‌মিক ৩২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে দুর্ঘটনা ঘ‌টে‌ছে। দুর্ঘটনার ৩৩ দশ‌মিক ৮৭ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৪৪ দশ‌মিক ৩৫ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে সংঘটিত হয়ে‌ছে।

সংবাদ সম্মেলনে যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক ক্যান্সারের মতো বেড়ে যাওয়ার কারণে পঙ্গু হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১৫০ পঙ্গু রোগী ভর্তি হলেও ঈদের এইসময়ে ২০০ থেকে ২৫০ ক‌রে প্রতিদিন রোগী ভর্তি হয়েছে। যার ৬০ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২৫ শতাংশ ইজিবাইক দুর্ঘটনায় শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে।

এছাড়াও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে দুই শতাধিক সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছে। দেশের বিভাগীয় হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ১০০ সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছে। জেলা সদর হাসপাতালেও দুর্ঘটনার রো‌গী বে‌ড়ে‌ছে।

সড়ক, রেল ও নৌপথের উন্নয়নে সরকার কয়েক লাখ কোটি টাকার প্রকল্প এক যুগ ধরে বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের দীর্ঘসূত্রিতা, গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন না হওয়া, ভোগান্তি ও যানজট থেকে বাঁচতে মানুষ বিকল্প হিসেবে এসব ছোট পরিবহনের ব্যবহার অস্বাভাবিক হারে বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা ধারণার চে‌য়েও দ্রুতগ‌তি‌তে বাড়‌ছে।

দুর্ঘটনার ছয় কারণ চি‌হ্নিত ক‌রে তা ৮ দফা সুপা‌রিশ ক‌রে‌ছে যাত্রীকল্যাণ স‌মি‌তি। সংবাদ স‌ম্মেল‌নে আরও উপস্থিত ছিলেন সমি‌তির সহ-সভাপতি তাওহীদুল হক লিটন, যুগ্ম মহাসচিব মনিরুল হক, প্রচার সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাসেল প্রমুখ।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.